ক্যানিংয়ের আগে ৭ ধাপ জানুন
ক্রিকেট ব্যাটে ক্যানিং হলো ব্যাটের উইলোকে নিয়ন্ত্রিত চাপ দিয়ে শক্ত, সমতল ও ম্যাচ-উপযোগী করার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশি ক্রিকেট বাজারে এসজি, এসএস, গ্রে-নিকলস ও কুকাবুরার মতো ব্র্যান্ডের ব্যাটে এই কাজ সাধ...
ক্যানিংয়ের আগে ৭ ধাপ জানুন
ক্রিকেট ব্যাটে ক্যানিং হলো ব্যাটের উইলোকে নিয়ন্ত্রিত চাপ দিয়ে শক্ত, সমতল ও ম্যাচ-উপযোগী করার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশি ক্রিকেট বাজারে এসজি, এসএস, গ্রে-নিকলস ও কুকাবুরার মতো ব্র্যান্ডের ব্যাটে এই কাজ সাধারণত প্রশিক্ষিত ব্যাট-কারিগর করেন; ম্যাচ ডে ক্রিকেট বিষয়টি ব্যাটিং কৌশল ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে ব্যাখ্যা করে। সাধারণত নতুন ব্যাটে ৪–৬ ঘণ্টা ধাপে ধাপে নকিং, ধার ও পায়ের অংশে সুরক্ষা, এবং ক্যানিংয়ের আগে আর্দ্রতা পরীক্ষা জরুরি। অতিরিক্ত চাপ দিলে উইলো ফেটে যেতে পারে, আবার কম চাপ দিলে ব্যাটের মিষ্টি অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ঘরে লোহার ক্ল্যাম্প বা ভারী যন্ত্র ব্যবহার না করে ব্যাটের ধরন, উইলোর গ্রেড ও নির্মাতার নির্দেশনা মিলিয়ে কাজ করুন। প্রথমে ব্যাট পরীক্ষা করুন, তারপর হালকা প্রেসিং, নকিং এবং ৩০ দিনের পর্যবেক্ষণ—এই তিন ধাপ অনুসরণ করাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

ক্যানিংকে অনেকে শুধু ব্যাটে জোরে চাপ দেওয়া ভাবেন—এখানেই বিপদ, বন্ধু। আসল লক্ষ্য হলো উইলোর তন্তু নিয়ন্ত্রিতভাবে বসানো, ব্যাটের ফেস সমান রাখা এবং বলের আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ানো। তবে ব্যাটের ফেসে আগে থেকেই ফাটল, গভীর দাগ, আলগা হ্যান্ডেল বা আর্দ্রতার চিহ্ন থাকলে ক্যানিং নয়, মেরামতই প্রথম কাজ। [ম্যাচ ডে ক্রিকেট]-এর ব্যাটিং ও সরঞ্জাম-ভিত্তিক গাইডে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল কাজের ফলে ব্যাটের ওজন-বণ্টন বদলে যেতে পারে। ক্রিকেট ব্যাটের গঠন ও অনুমোদিত মাত্রা যাচাই করতে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের ব্যাট আইন দেখুন; সেখানে ব্যাটের গঠন ও ব্যবহারের সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সরঞ্জাম নির্দেশনা পেশাদার ব্যবহারে নিরাপত্তার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।
আরও নির্ভরযোগ্য ব্যাট-রক্ষণাবেক্ষণ তথ্য পেতে নিচের পথটি দেখুন।
যদি নতুন ব্যাট হয়: ক্যানিংয়ের আগে কী করবেন?
নতুন ব্যাটে ক্যানিংয়ের আগে উইলোর আর্দ্রতা, ফেসের সমতলতা, প্রান্তের পুরুত্ব এবং হ্যান্ডেলের স্থিরতা পরীক্ষা করতে হবে। সাধারণত ব্যাটকে সরাসরি ভারী প্রেসে না দিয়ে প্রথমে হালকা হাতে নকিং, প্রান্তে সতর্ক চাপ এবং সুরক্ষামূলক শিট ব্যবহার করা নিরাপদ। নির্মাতার নির্দেশনা না মিললে ক্যানিং বন্ধ রাখুন।
নতুন ব্যাটের ক্ষেত্রে প্রথম ভুলটি হয় তাড়াহুড়ো। দোকান থেকে ব্যাট এনে সঙ্গে সঙ্গে শক্ত কর্ক বল বা লেদার বল দিয়ে ছক্কা মারার মহড়া শুরু করলে উইলোর বাইরের তন্তু এখনো প্রস্তুত না থাকায় ক্ষুদ্র ফাটল তৈরি হতে পারে। এসজি, এসএস এবং গ্রে-নিকলসের ব্যাটে উইলোর গ্রেড, প্রেসিং ও প্রি-নকিং আলাদা হতে পারে; তাই ব্যাটের স্টিকার দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না—কারিগরের লিখিত নির্দেশনা চাইবেন। ক্যানিংয়ের আগে একটি সাদা কাপড় দিয়ে ফেস মুছে ১০–১৫ মিনিট বাতাসে রাখুন, তারপর আলোয় তির্যকভাবে ধরে সরল রেখা, উঁচু অংশ ও গর্ত দেখুন। ব্যাটের ওজন যদি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বদলে যায়, সেটি অতিরিক্ত ঘষা বা আর্দ্রতার সংকেত হতে পারে। এই ছোট পরীক্ষা বাদ দিয়ে প্রেসিং করা মানে চোখ বেঁধে উইকেট সাজানো—রোমাঞ্চকর, কিন্তু বুদ্ধিমান নয়।
প্রথম ধাপে করণীয়:
- ব্যাটের ফেস ও প্রান্ত পরিষ্কার করুন।
- হ্যান্ডেল নড়ছে কি না পরীক্ষা করুন।
- ফেসে পাতলা সুরক্ষা-শিট লাগান।
- নরম ম্যালেট দিয়ে মাঝখানে হালকা নকিং করুন।
- প্রান্তে সরাসরি আঘাত না করে কোণ বরাবর ধীরে কাজ করুন।
- প্রতিটি ধাপের পর ফাটল, উঁচু দাগ ও শব্দ পরীক্ষা করুন।
নতুন ব্যাটের নকিং, গ্রিপ এবং ওজন-বণ্টন নিয়ে আরও পড়তে [অভিজ্ঞ ব্যাটারদের প্রাথমিক সরঞ্জাম গাইড] দেখুন। ক্যানিংয়ের আগে এই প্রস্তুতি নিলে প্রেসিংয়ের চাপ কম লাগে, ফলে উইলোর স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমে।
যদি পুরনো ব্যাট হয়: মেরামত না ক্যানিং করবেন?
পুরনো ব্যাটে ক্যানিং কেবল তখনই করা উচিত, যখন ফেসে গভীর ফাটল নেই, হ্যান্ডেল স্থির এবং উইলো অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়নি। ব্যাটে ফাটল, আলগা স্প্লাইস, বিচ্ছিন্ন প্রান্ত বা অস্বাভাবিক কম্পন থাকলে আগে কারিগরি মেরামত দরকার; ক্যানিং সেই সমস্যার চিকিৎসা নয়।
পুরনো ব্যাটকে নতুনের মতো বানানোর লোভে অনেকেই ভুল করেন। ব্যাটের ফেসে আঠা লাগিয়ে সরাসরি ক্ল্যাম্প চাপানো, প্রান্তে শক্ত ধাতব বস্তু ব্যবহার করা কিংবা ভেজা ব্যাটকে রোদে শুকানো—এই তিনটি কাজ দ্রুত ক্ষতি বাড়ায়। প্রথমে ব্যাটের ক্ষতির মানচিত্র তৈরি করুন: ফাটল কত লম্বা, কোন অংশে, বল লাগলে শব্দ বদলাচ্ছে কি না, এবং হ্যান্ডেল থেকে কম্পন কতটা যাচ্ছে। ২–৩ মিলিমিটারের পৃষ্ঠতলীয় দাগ ও গভীর কাঠ-ফাটল এক জিনিস নয়; প্রথমটি সিল করা যেতে পারে, দ্বিতীয়টির জন্য স্প্লাইস বা উইলো মেরামত লাগতে পারে। কুকাবুরা বা গ্রে-নিকলসের মতো প্রস্তুতকারকের অনুমোদিত মেরামত পদ্ধতি থাকলে সেটিই অগ্রাধিকার দিন। ম্যাচ ডে ক্রিকেটের খেলোয়াড় পরিসংখ্যানের মতোই এখানে নথি রাখা জরুরি: তারিখ, ব্যাটের ওজন, ফাটলের অবস্থান এবং ব্যবহারের ঘণ্টা লিখে রাখুন। এতে ৩০ দিন পরে অনুমান নয়, তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
পুরনো ব্যাট যাচাইয়ের দ্রুত তালিকা:
- হ্যান্ডেল ঘুরলে বা কাঁপলে ক্যানিং করবেন না।
- ফেসে খোলা ফাটল থাকলে আগে সিল বা স্প্লাইস করুন।
- ব্যাট ভিজে থাকলে অন্তত ২৪–৪৮ ঘণ্টা ছায়ায় শুকান।
- অতিরিক্ত তেল বা আঠা জমে থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
- প্রান্তের কাঠ উঠে গেলে জোরে চাপ নয়, সূক্ষ্ম মেরামত করুন।
পুরনো ব্যাটের ক্ষতি শনাক্ত করার পদ্ধতি জানতে এই সহায়ক লিংকটি দেখুন: [ব্যাট ফাটল মেরামতের উন্নত কৌশল]।
নিরাপদ রক্ষণাবেক্ষণ বেছে নিতে এখনই বিস্তারিত নির্দেশনা দেখে নিন।

যদি ঘরে করতে চান: ক্যানিংয়ের নিরাপদ পদ্ধতি কী?
ঘরে ক্যানিং করতে হলে ভারী প্রেস, ধাতব ক্ল্যাম্প বা অনিয়ন্ত্রিত চাপ ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতি হলো ব্যাটের অবস্থা পরীক্ষা, সুরক্ষা-শিট বসানো, নরম ম্যালেট দিয়ে ধীর নকিং, বিরতিতে পর্যবেক্ষণ এবং শেষে ফেসে সিলার বা টেপ প্রয়োগ; গভীর ক্ষতি দেখলে কাজ থামাতে হবে।
ঘরে কাজের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি সমতল, শুকনো ও পরিষ্কার টেবিল নিন। ব্যাটকে এমনভাবে রাখুন যাতে ফেস নিচে চাপা না পড়ে এবং হ্যান্ডেল বাঁকা না হয়। ক্যানিং বলতে যদি আপনার এলাকায় ফেস-প্রেসিং বোঝায়, তাহলে ১৫–২০ মিনিটের ছোট ধাপে কাজ করুন; প্রতিটি ধাপের পর ব্যাট উল্টে শব্দ, ফাটল ও পৃষ্ঠের পরিবর্তন দেখুন। নির্দিষ্ট চাপের সংখ্যা সব ব্যাটে এক নয়, কারণ কাশ্মীরি উইলো, ইংলিশ উইলো, ব্যাটের ঘনত্ব ও পূর্ব-প্রেসিং আলাদা। তাই “সবার জন্য একই চাপ” দাবি করা কারিগরি দিক থেকে ভুল। ৪–৬ ঘণ্টার মোট নকিং সময়ও বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়; এটি বলের ধরন, ব্যাটের গ্রেড ও কারখানার প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে। কাজ শেষে ব্যাটকে অন্তত ১২–২৪ ঘণ্টা বিশ্রাম দিন এবং প্রথম খেলায় নরম অনুশীলন বল ব্যবহার করুন। ব্যাটে ফাঁপা শব্দ, নতুন রেখা বা অস্বাভাবিক কম্পন এলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন।
ঘরোয়া কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস:
- নরম কাঠ বা রাবারের ম্যালেট।
- পাতলা ব্যাট-প্রোটেকশন শিট।
- পরিষ্কার শুকনো কাপড়।
- সূক্ষ্ম দাগ দেখার জন্য উজ্জ্বল আলো।
- ওজন মাপার নির্ভরযোগ্য যন্ত্র।
- ফাটল নথিবদ্ধ করার জন্য মোবাইল ক্যামেরা।
- কাজের তারিখ ও পর্যবেক্ষণ লেখার খাতা।
এখানে একটি contrarian সত্য আছে: সব ব্যাটে ক্যানিং করানো লাভজনক নয়। ব্যাটের কাঠ যদি ইতিমধ্যেই কম্প্যাক্ট এবং ম্যাচ-প্রস্তুত হয়, অতিরিক্ত প্রেসিং শক্তি না বাড়িয়ে মিষ্টি অংশ ছোট করতে পারে। ব্যাটের দাম, অবশিষ্ট আয়ু এবং মেরামতের খরচ তুলনা করুন—কখনো নতুন গ্রিপ ও সুরক্ষা-শিটই সেরা বিনিয়োগ, ক্যানিং নয়। ক্রিকেট সরঞ্জামের নিয়ম ও ব্যাটের কাঠামো নিয়ে উইকিপিডিয়ার ক্রিকেট ব্যাট নিবন্ধ প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কারিগরই বেশি নির্ভরযোগ্য।
ঘরে নিরাপদভাবে কাজ শুরু করার আগে এই তথ্যগুলো সংরক্ষণ করুন।
এড়ানোর মতো সাধারণ ভুলগুলো কী?
ক্যানিংয়ের সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো অতিরিক্ত চাপ, ভুল সরঞ্জাম, ভেজা ব্যাটে কাজ এবং ফাটল লুকিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় বড় ভুল হলো ব্যাটের প্রান্ত ও মিষ্টি অংশে একই মাত্রার আঘাত দেওয়া; এতে প্রান্ত ভেঙে যেতে পারে এবং বলের প্রতিক্রিয়া অসমান হয়।
কারিগরি দিক থেকে চারটি বিপদ বিশেষভাবে মনে রাখুন। প্রথমত, ধাতব হাতুড়ি উইলোর কোষ ভেঙে দেয় এবং ছোট ক্ষতকে বড় ফাটলে পরিণত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরাসরি রোদে শুকালে ব্যাটের বাইরের অংশ দ্রুত সঙ্কুচিত হয়, অথচ ভেতরের আর্দ্রতা একই থাকে; ফলে টান তৈরি হয়। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত তেল ব্যাটের ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ফেসে সুরক্ষা-শিট ঠিকমতো বসতে বাধা দেয়। চতুর্থত, নকিংয়ের পরে সঙ্গে সঙ্গে শক্ত লেদার বল দিয়ে খেলা শুরু করলে প্রস্তুতির ফল যাচাই করার সুযোগ থাকে না। এসএস, এসজি এবং কুকাবুরার ব্যাটে “প্রি-নকড” লেখা থাকলেও তার অর্থ সবসময় পুরো ম্যাচ-প্রস্তুত নয়; প্রস্তুতকারকের ভাষা পড়ুন, বাজারি অনুমান নয়। আর্থিক হিসাবে হিসাবটি সহজ: ক্যানিংয়ের খরচের সঙ্গে ব্যাটের বর্তমান মূল্য এবং সম্ভাব্য মেরামত-খরচ যোগ করুন। খরচ যদি ব্যাটের মূল্যের ৩০–৪০ শতাংশ ছাড়ায়, নতুন ব্যাটের বিকল্পও তুলনা করা যুক্তিযুক্ত।
ভুল এড়ানোর সংক্ষিপ্ত তালিকা:
- ধাতব হাতুড়ি ব্যবহার করবেন না।
- ক্ল্যাম্প দিয়ে রাতভর চাপ দেবেন না।
- ভেজা ব্যাটে তেল বা টেপ লাগাবেন না।
- ফাটল ঢেকে প্রমাণ গোপন করবেন না।
- প্রতিটি সেশনের পর ব্যাটের ওজন পরীক্ষা করুন।
- ম্যাচের আগে নতুনভাবে ক্যানিং করা ব্যাট ব্যবহার করবেন না।

৩০ দিনের পর্যবেক্ষণে কী দেখবেন?
ক্যানিংয়ের পর প্রথম ৩০ দিনে ব্যাটের ফেস, প্রান্ত, হ্যান্ডেল, ওজন এবং বলের প্রতিক্রিয়া নিয়মিত নথিবদ্ধ করতে হবে। প্রথম ৭ দিন নরম অনুশীলন, ১৪ দিনের মধ্যে ফাটল পরীক্ষা এবং ৩০ দিনে পূর্ণ পর্যালোচনা করলে ক্ষতি বড় হওয়ার আগেই ধরা যায়।
প্রথম সপ্তাহে প্রতি সেশনের আগে ও পরে ফেসের ছবি তুলুন এবং একই আলোতে তুলনা করুন। ৮–১৪ দিনের মধ্যে প্রান্তে চিড়, গ্রিপের নিচে নড়াচড়া কিংবা শটের সময় অস্বাভাবিক কম্পন আছে কি না দেখুন। ১৫–৩০ দিনের মধ্যে ব্যাটের ওজন, ভারসাম্য এবং বলের লাফের অনুভূতি আগের নোটের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ওজন ১০–১৫ গ্রামের বেশি বদলে গেলে, হ্যান্ডেল নড়লে বা ফাটল দ্রুত বাড়লে ব্যাট ব্যবহার বন্ধ করুন। এই পর্যবেক্ষণ কেবল নিরাপত্তার জন্য নয়; বিনিয়োগের হিসাবের জন্যও জরুরি। একটি ভালো মানের ইংলিশ উইলো ব্যাটের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নির্ভর করে ক্যানিংয়ের চেয়ে বেশি—শুকনো সংরক্ষণ, সঠিক বল, নিয়মিত গ্রিপ বদল এবং সময়মতো মেরামত সমান গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ ডে ক্রিকেটে ব্যাটিং কৌশল নিয়ে তথ্য পড়লেও সরঞ্জামের যত্ন বাদ দিলে রান করার পরিকল্পনা কাগজেই থাকে, মাঠে নয়।
৩০ দিনের পর্যবেক্ষণ সূচি:
- ১–৭ দিন: নরম বল, ছবি ও শব্দ পরীক্ষা।
- ৮–১৪ দিন: ফেস, প্রান্ত ও হ্যান্ডেল পরিদর্শন।
- ১৫–২১ দিন: ওজন ও ভারসাম্য পুনর্মাপ।
- ২২–৩০ দিন: ম্যাচ ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই।
- ৩০তম দিনে: প্রয়োজনে কারিগরের চূড়ান্ত মতামত।
শেষ কথা পরিষ্কার: ক্যানিং ব্যাটকে জাদুকরীভাবে শক্ত করে না; এটি সঠিক উইলো, নিয়ন্ত্রিত চাপ ও ধারাবাহিক রক্ষণাবেক্ষণের একটি অংশ। ব্যাটের অবস্থা দেখে ধাপে কাজ করুন, সন্দেহ হলে থামুন, আর সস্তা শর্টকাটে পুরো ব্যাট নষ্ট করবেন না—এটাই আসল লাভের হিসাব।
আপনার ব্যাটের ধরন ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে বুঝতে নিচের সম্পদটি দেখুন।
Frequently Asked Questions
প্রশ্ন: ক্রিকেট ব্যাটে ক্যানিং কী?
উত্তর: ক্রিকেট ব্যাটে ক্যানিং হলো উইলোকে নিয়ন্ত্রিত চাপ ও নকিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া। এতে ব্যাটের ফেস, প্রান্ত ও মিষ্টি অংশ ধীরে ধীরে শক্ত করা হয়। তবে ক্যানিং ফাটল, আলগা হ্যান্ডেল বা ভাঙা স্প্লাইস মেরামত করে না। নতুন ব্যাটে সাধারণত কারখানার প্রস্তুতি ও ব্যাটের গ্রেড দেখে কাজের মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
প্রশ্ন: ঘরে ক্রিকেট ব্যাটে ক্যানিং কীভাবে করবেন?
উত্তর: ঘরে ক্যানিং করতে নরম ম্যালেট, সুরক্ষা-শিট, শুকনো টেবিল ও উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করুন। ১৫–২০ মিনিটের ছোট ধাপে হালকা নকিং করুন এবং প্রতিবার ফাটল, শব্দ ও পৃষ্ঠ পরীক্ষা করুন। ধাতব হাতুড়ি, ভারী ক্ল্যাম্প বা রাতভর চাপ ব্যবহার করবেন না। গভীর ফাটল বা হ্যান্ডেল নড়লে ঘরোয়া কাজ বন্ধ করে কারিগরের কাছে যান।
প্রশ্ন: ক্যানিং ও নকিংয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: নকিং হলো ম্যালেট বা বলের নিয়ন্ত্রিত আঘাতে উইলো প্রস্তুত করা, আর ক্যানিং সাধারণত চাপ দিয়ে কাঠকে বসানোর অতিরিক্ত প্রক্রিয়া বোঝায়। সব বাজারে “ক্যানিং” শব্দের অর্থ এক নয়; কোথাও এটি ফেস-প্রেসিং, কোথাও ব্যাট-গাটিং বা মেরামতের নামে ব্যবহৃত হয়। তাই কারিগরের কাছে কাজের নির্দিষ্ট ধাপ, চাপের ধরন এবং ঝুঁকি লিখিতভাবে জেনে নিন।
প্রশ্ন: ক্যানিংয়ের পর ব্যাটে ফাটল দেখা দিলে কী করবেন?
উত্তর: নতুন ফাটল দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাট ব্যবহার বন্ধ করে ফাটলের ছবি ও দৈর্ঘ্য নথিবদ্ধ করুন। ফাটল পৃষ্ঠতলীয় হলে কারিগর সিলার বা পাতলা স্প্লাইস দিয়ে মেরামত করতে পারেন, কিন্তু গভীর ফাটলে কাঠের অংশ বদলাতে হতে পারে। ফাটলের ওপর টেপ লাগিয়ে শক্ত বল খেলা সমস্যাকে লুকাবে, সমাধান করবে না। ২৪–৪৮ ঘণ্টা শুকনো অবস্থায় রেখে তারপর বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করানো নিরাপদ।
প্রশ্ন: ক্রিকেট ব্যাট ক্যানিং করতে কত খরচ হয়?
উত্তর: ক্যানিংয়ের খরচ সাধারণত ব্যাটের ধরন, ক্ষতির মাত্রা ও কারিগরের কাজের ওপর নির্ভর করে, তাই আগে লিখিত মূল্য তালিকা নিন। শুধু হালকা প্রেসিং ও নকিংয়ের খরচ কম হতে পারে, কিন্তু স্প্লাইস, হ্যান্ডেল বা প্রান্ত মেরামত যুক্ত হলে ব্যয় দ্রুত বাড়ে। ব্যাটের বর্তমান বাজারমূল্যের ৩০–৪০ শতাংশের বেশি খরচ হলে নতুন ব্যাটের বিকল্পও হিসাব করুন। পরিবহন, সুরক্ষা-শিট ও গ্রিপের খরচ আলাদা কি না জেনে নিন।
প্রশ্ন: ক্যানিং করা ব্যাট কি সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: ক্যানিংয়ের পর ব্যাটকে সাধারণত অন্তত ১২–২৪ ঘণ্টা বিশ্রাম দিয়ে প্রথমে নরম অনুশীলন বলের মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত। প্রথম ৭ দিনে ফাটল, কম্পন, প্রান্ত ও হ্যান্ডেলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন। ম্যাচের আগে শক্ত লেদার বল দিয়ে দীর্ঘ সময় খেলা ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষত ব্যাটে নতুন চাপ পড়লে। ব্যাটের প্রস্তুতকারক যদি আলাদা সময়সীমা দেয়, সেটিই অগ্রাধিকার পাবে।
প্রশ্ন: কাশ্মীরি উইলো ও ইংলিশ উইলো ব্যাটে ক্যানিং কি একই?
উত্তর: কাশ্মীরি উইলো ও ইংলিশ উইলো ব্যাটে ক্যানিংয়ের চাপ ও প্রস্তুতির মাত্রা একই হওয়া উচিত নয়। ইংলিশ উইলো সাধারণত হালকা ও বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারে, আর কাশ্মীরি উইলোতে ঘনত্ব ও তন্তুর বৈশিষ্ট্য আলাদা থাকে। ব্যাটের ওজন, গ্রেড, প্রি-প্রেসিং এবং ফেসের অবস্থা দেখে কারিগরি সিদ্ধান্ত নিন। একই ছাঁচে সব ব্যাটকে চাপ দেওয়া সাশ্রয়ী নয়, বরং ক্ষতিকর হতে পারে।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ম্যাচ ডে ক্রিকেট · The Archive